FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৩ জুলাই, ২০১৬ - ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

‘ভেদাভেদ’ ভুলে ‘সমন্বয়ের’ ডাক দুই নেত্রীর

full_1

x

রাজনীতি ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে উগ্রবাদীদের হামালার ঘটনার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভেদাভেদ’ ভুলে যাওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে দেশের প্রধানতম বিরোধীদল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ‘সমন্বিত প্রচেষ্টার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু, শুক্রবার রাতের জিম্মি ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই এমন অভিযোগ করা হয়নি।

গুলশানে উগ্রপন্থীদের হামলায় ২৮ জনের প্রাণহানির ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বাইরে সরকারের আর কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে জিম্মি করে উগ্রবাদী হামলার ঘটনা এটাই প্রথম। এমন ঘটনায় মন্ত্রী-নেতাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে মিডিয়াতে বক্তৃতা না করাও বিষয়টিও লক্ষ্যনীয়।

সাধারণত, বড় ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে দু-চার কথা উগড়ে দেওয়া যেন নিয়মিত ঘটনা। তেমনি পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ব্যর্থতা বা সরকারকে দায়ী করে অভিযোগ করে বিরোধী দল। কিন্তু, এবার তেমনটি না হওয়া বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে ইঙ্গিত করে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনো মূল্যে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করব।

ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করে কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না। আসুন, আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করি।

এ ঘটনায় বিএনপি চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতেও একসেঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সভ্যতা বিরোধী উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে দল মত নির্বিশেষে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাই। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এখনই এই উগ্রবাদী শক্তিকে দমন করতে না পারলে এরা দীর্ঘতম যুদ্ধ চালিয়ে দেশের জনগণের শান্তি, সুস্থিতি, নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলবে।

দায়িত্বশীল মিডিয়া!

শনিবার একটি অনুষ্ঠানে জিম্মি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাম উল্লেখ না করে কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সমালোচনা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । কিন্তু, এবারের রক্তাক্ত গুলশানের ঘটনা দিকে তাকালে দেখা যায় কোনো গণমাধ্যমেই এ হামলার বিভৎস ছবি দেখায়নি।

সাধারণত এমন সব চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অপ্রকাশযোগ্য অনেক ছবি মানুষের সামনে তুলে ধরে।

শুক্রবার রাতে জিম্মিদের উদ্ধার করার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে টেলিভিশনগুলোকে ‘সরাসরি সম্প্রচার’ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এই ক্ষেত্রে কোনো কোনো স্টেশন হয়তো প্রত্যাশিত আচরণ করেনি। তবে, সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের বিভৎসতা প্রচার না করার নতুন সংস্কৃতি গড়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যগুলো।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (০১জুলাই) রাজধানীর গুলাশান-২ এলাকার ৭৯ নাম্বার সড়কে স্পেনিশ একটি রেস্টুরেন্টে উগ্রবাদীদের হামলায় পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

print