মঙ্গলবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরও
  5. ইসলাম
  6. করোনাভাইরাস
  7. খাদ্য
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. সর্বশেষ

ভাড়ায় উঠে বাড়ি দখল করে নিলো মহিলা লীগ নেত্রী

প্রতিবেদক
tulpar
জানুয়ারি ৩১, ২০২৩ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি.
বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাসের একপর্যায়ে সেই বাড়ি নিজের বলে দখল করে নিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা লীগের সদস্য মমতাজ জাহান মিতু। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাড়ি কেনার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে বলে ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত মালিক ইসহাক। অভিযুক্ত নেত্রী ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের ধামদী এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার ধামদী গ্রামের বাড়ির মালিক ইসহাক মিয়া ২০১৮ সালে একই গ্রামের মমতাজ জাহান মিতুর কাছে বাড়ি ভাড়া দেন। এদিকে ভাড়াটিয়া মমতাজ জাহান মিতু বাড়িতে অনৈতিক কাজ করছে এমন কর্মকাণ্ড দেখে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন মালিক ইসহাক মিয়া। সেইসঙ্গে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করার জন্য বলা হয় ভাড়াটিয়াকে। কিন্তু মালিকের এমন নির্দেশ কর্ণপাত করেনি ভাড়াটিয়া মিতু। বরং উল্টো বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেন ইসহাক মিয়া ও তার ছেলে রুবেল মিয়াকে। এমন অবস্থায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মালিক ইসহাক বাড়ি ছাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তারপরও বাড়ি ছাড়েননি ভাড়াটিয়া মিতু।

বরং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাসা কেনার নকল কাগজপত্র তৈরি করে বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে মালিকানা দাবি করে বসেন তিনি। বাড়ি তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে এমন খবর শুনে বাসার মালিক ইসহাক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া প্রতিবাদ করেন। এ প্রতিবাদের জের ধরে মিতু তার নিজের ৬ বছরের কন্যা সন্তান দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলে। পরে সেই অভিযোগ গড়ায় থানা পুলিশ পর্যন্ত। অবশেষে থানায় মালিক ইসহাকের ছেলে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজ বাড়ি থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে রুবেল জেলহাজতে রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানান, রাজনৈতিক দলের এমপি, মন্ত্রীদের কথা বলে অনৈতিক ব্যবসার পাশাপাশি মিতু তার এলাকায় গড়ে তুলেছেন রাজত্ব। সুন্দরী হওয়ায় বন্ধুত্বের ছলে সমাজের টাকাওয়ালা মানুষকে টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা ও জমি। যদি এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করে তাহলে তার হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। তাই হয়রানির ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারে না বলে জানান এলাকাবাসী। এ ছাড়াও নানা কারণে এবং প্রতারণা করে এপর্যন্ত অসংখ্য বিয়ে করেছে মিতু। এদিকে ওই নেত্রী হয়রানি থেকে বাদ দেননি তার নিজের পিতাকেও। টাকা ও জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে মামলা করেছেন মিতু। অন্যের জমি দখল করা তার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায়ও জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দখলকৃত জমি ছাড়তে বাধ্য হন মিতু। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মহিলা লীগ নেত্রী মিতু বলেন, এই বাড়িটা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু ইসহাক মিয়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাড়িটি আমার কাছে বিক্রি করেছে। এর বায়না দলিলও আছে। বাড়ির মালিক ইসহাক মিয়া বলেন, আমার বাড়ি ভাড়া নেয় মিতু। পরে যখন বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয় তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। বর্তমানে সেই মামলায় আমার ছেলে জেল খাটছে। বাড়ি দখল করতেই আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে মিতু। ভুয়া কাগজপত্র ও বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে বাড়ি দখল করে নেয় সে। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও আমরা এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আমার আকুতি। পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস ছাত্তার কমান্ডার বলেন, মালিক ইসহাকের বাড়িতে ভাড়া থেকে নিজেই মালিক বলে দাবি করছেন মিতু। এমন মিথ্যা দাবির পর বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এটি স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। অচিরেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত