FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ - ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিকলীতে কাজীর দূর্নীতি চরমে, টাকা পেলেই বাল্য বিয়ে

বাল্য বিয়ে

x

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জের নিকলীর জারইতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ জাল্লাবাদ গ্রামের কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলী (৪৬) এর দূর্নীতি এখন চরম শিখরে এসে পৌঁছেছে। টাকা পেলেই একের পর এক বাল্য বিয়ে করিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এ কারনে গত এক বছরে কয়েকবার জরিমানা হলেও এখনো কাজী ইদ্রিস আলী তার অনৈতিক বিয়ের কাজ দাপটের সহিত চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালোর ২৯ ফ্রেরুয়ারী উপজেলা জারইতলা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলী। বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে তাঁকে ২০১০ সালে কাজীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলা মোকদ্দমা ও অজ্ঞাত প্রভাবে তিনি ২০১৪ সালে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসনে। দায়িত্ব পাওয়ার পর আবার সে পূর্বের কর্মকান্ড শুরু করেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণীর হাকিম মোহাম্মদ মাহবুব আলম গত ২৬ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলীকে দোষী সাব্যস্থ করে বিশ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে ৬ (ছয়) মাসের কারাদন্ডাদেশ দেন। ঐ দিনই জরিমানার অর্থ নগদে পরিশোধ করে আদালত থেকে মুক্তি লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দৈনিক গুলোতে তার অনৈতিক কর্মকান্ডের ইতিহাস তুলে ধরা হলে এলাকায় সে আরো সমালোচনায় আসে।
উল্লেখযোগ্য জাতীয় দৈনিকগুলোতে ওই কাজীর বিরোদ্ধে  প্রকাশিত শিরোনামের খোঁজ নিলে দেখা যায়, গত ২৯ আগষ্ট ২০১৫ দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম নিকলীতে কাজীর জরিমানা। ২৭ আগষ্ট ২০১৫ বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম কাজী দন্ড। ২৯ আগষ্ট ২০১৫ সংবাদ প্রতিদিনের শিরোনাম নিকলী একই বিয়ের দুই কাবিন নামা। ২৭ আগষ্ট ২০১৫ সমকালের শিরোনাম নিকলী কাজীর জরিমানা। ২৭ অক্টোবর আমার বাংলাদেশের শিরোনাম নিকলীতে বাল্য বিয়ের অভিযোগ অবশেষে সেই কাজীর বিচার কার্য শুরু। ২৭ আগষ্ট ২০১৫ প্রকাশিত কালের কন্ঠের শিরোনাম বিয়ে নিবন্ধনে প্রতারনা আবার ধরা পরলে নিবন্ধন বাতিল। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম শেষ বারের মত কাজী ইদ্রিছ আলীকে সর্তক করে বলেন আবারও অনিয়ম করলে তাঁর নিকাহ রেজিষ্ট্রারের নিবন্ধন বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি আবার ও গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদে জনাব কামরুল ইসলাম মানিক চেয়ারম্যান সাহেবের উপস্থিতিতে সাজনপুর গ্রামের কাছুম আলী ও গুরই ইউনিয়নের রানু আক্তারের তালাক নামা রেজিষ্ট্রি করা হয়। এতে কাজী সাহেব গেজেট অনুযায়ী তালাকের ফি বাবদ পাঁচশত টাকার স্থলে ১৪০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব কামরুল ইসলাম মানিক এর সত্যতা নিশ্চিত করে তোলপাড় প্রতিনিধিকে বলেন কাজী তার সামনে কাছুম আলী ও রানু আক্তারের তালাক নামা রেজিষ্ট্রি করেন এবং ফি বাবদ ১৪০০ টাকা নেন। তারপর ১২ অক্টোবর ২০১৬ ইং তারিখে জারইতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে আব্দুল আওয়ালের উপস্থিতিতে করগাঁও ইউনিয়নের মজিদ আলী ছেলে লিটন মিয়া ও জারইতলা গ্রামের আব্দুল কাদির এর কন্যা লাকি আক্তারের তালাক নামা রেজিষ্ট্রি করে ১৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। জারইতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে আব্দুল আওয়াল এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে জারইতলা ইউনিয়নের রেজিষ্টার ও কাজী মোঃ ইদ্রিছ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর তিনি তোলপাড় প্রতিনিধিকে বলেন তালাক রেজিষ্ট্রি করতে তিনি ৫০০ টাকা করেই নেন। ১৫০০ টাকা কখন নেন নি। কাজী মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলী একের পর এক এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে জারইতলা ইউনিয়ন বাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। জনগন এই অন্যায় অত্যাচার থেকে পরিত্রান চান এবং মানানীয় আইন মন্ত্রীর হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

print