FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

২৬ আগস্ট, ২০১৬ - ২:২৭ অপরাহ্ণ

নদী ড্রেজিংয়ে আরো দুই হাজার কোটি টাকা চান মন্ত্রী

digging

x


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের জন্য চলতি অর্থবছরই (২০১৬-১৭) আরো দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এ বাড়তি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ডিও (চাহিদাপত্র) পাঠিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া চিঠিতে শুধুমাত্র নদী ড্রেজিংয়ের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই পানি সম্পদমন্ত্রী এ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মন্ত্রীর দফতর থেকে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

পানি সম্পদমন্ত্রী চিঠিতে বলেছেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনাবাহিত পলি দ্বারা এদেশ গঠিত। আমাদের দেশে প্রতি বছর নদী দ্বারা প্রায় ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন টন পলি বাহিত হয়। যার অধিকাংশই ক্রমাগত নদীর তলে জমা হয়। এর ফলে দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়সহ প্রায় সকল জলাশয়ে পলি বা বালি জমা হয়ে অনেকাংশে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদীগুলোও নাব্যতা হারাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নদীসমূহের নাব্যতা রক্ষার্থে ড্রেজিং কার্যক্রমের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় নদীর তীর সংরক্ষণমূলক প্রকল্পে ড্রেজিংয়ে অন্তত ৭৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন এক চিঠির মাধ্যমে নদীশাসন ও ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নদী ড্রেজিংয়ের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্ত্রী তার চিঠিতে বলেন, চলতি (২০১৬-১৭) অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৬৬টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭০৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) চাহিদা অনুযায়ী এডিপিতে বরাদ্দ না পাওয়ায় বার বার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। তাছাড়া আরো ৫৬টি অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকা এডিপিতে সন্নিবেশিত রয়েছে। এ বছই এসবের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকল্প অনুমোদিত হবে। ফলে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রেজিং কাজের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদী ড্রেজিং প্রকল্পগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন রয়েছে। দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, পলি জমাসহ বিভিন্ন কারণে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। এসব নদীগুলোর নাব্যতা ফেরাতে বছরের পর বছর চলছে ড্রেজিং প্রকল্প। ব্যয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ। কিন্তু বছর না ঘোরতেই আবারও পলি জমে আগের অবস্থায় ফিরছে নদীগুলো। এর মানে ড্রেজিংয়ের নামে টাকা ব্যয় হলেও খুব একটা কাজে আসছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জানান, দেশের নদীপথের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা খুব জরুরি। কেননা দেশের নৌ-রোড আস্তে আস্তে সংকোচিত হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরো যদি প্রয়োজন হয়, যাচাই-বাছাই করে তা বিবেচনা করা হবে।

print