FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

২৩ এপ্রিল, ২০১৬ - ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

টাকা আত্মসাৎ করতে স্বেচ্ছায় গুম প্রতারক আইনজীবী ধরা পড়ল র‌্যাবের জালে

image-10897

x

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাকরিরত নিজের প্রতিষ্ঠানের মোটা অঙ্কের টাকা মেরে স্বেচ্ছায় গুম হন তিনি। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দায়ের করা হয় অপহরণ মামলা! এমন নাটকের অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের দাবিতে চলে মানববন্ধনও। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে র‌্যাবের জালে আটকা পড়েছে ওই প্রতারক আইনজীবী। তার নাম অ্যাডভোকেট পলাশ কুমার রায় (৩৩)। কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানির বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে স্বেচ্ছায় গুম হয়ে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে পলাশ কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার বিকালে তেজগাঁও র‌্যাব-২-এর প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এভাবে নিজে থেকে গুম হওয়ার চেষ্টার কারণে অনেক সময় অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার নিয়ে র‌্যাবকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। মূলত একটি প্রতারক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতায় এবং পরামর্শে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা ছিল তার।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, গ্রেপ্তারকৃত পলাশ কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানির আইন বিভাগের জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বিনা নোটিশে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির তথ্যমতে, তার কাছে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ অনেক দলিল ও নথিপত্র রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন পাওনাদার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য যে টাকা গ্রহণ করেছেন তা থেকে ৩১ লাখ ৭ হাজার ৫০ টাকার হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট পাওনাদার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের তিনি ওই টাকা দেননি। পরবর্তী সময়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এবং কোম্পানির সঙ্গে প্রতারণার জন্য তিনি পুলিশের কাছে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন। এ ছাড়া ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফোরামে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করতে থাকেন।

মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ২৩ মার্চ কোম্পানি থেকে তাকে অর্থ ও দলিলসমূহ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। এর জবাব না দেওয়ায় ৩১ মার্চ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করে কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এসব অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য ২৯ মার্চ আত্মগোপনে চলে যান পলাশ কুমার। একই সঙ্গে ৩০ মার্চ আসামির মা মীরা রানী রায় তেজগাঁও থানায় পলাশ কুমার রায় নিখোঁজ হওয়া-সংক্রান্ত একটি জিডি করেন। পরবর্তী সময়ে ৪ এপ্রিল মীরা রানী রায় বাদী হয়ে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি অপহরণ মামলা করেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে গুম করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ এপ্রিল মা মীরা রানী রায় ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তার ছেলে আদৌ বেঁচে আছে কিনা, তা জানেন না। জীবিত বা মৃত যেভাবে হোক তার ছেলেকে ফেরত চান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পলাশ কুমার রায় নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলে অন্যদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। গত ১৯ এপ্রিল তার অপকর্মের পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কিছুসংখ্যক আইনজীবীকে ভুল বুঝিয়ে আসামির মা মীরা রানী রায় এবং তার সহযোগীরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (ঢাকা বার) ব্যানারে একটি মানববন্ধন করেন। ওই মানববন্ধন থেকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গত ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ায় বিষয়টি র‌্যাবের কাছে রহস্যজনক মনে হতে থাকে। র‌্যাব এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। একপর্যায়ে র‌্যাব-২-এর একটি দল গত বৃহস্পতিবার রাতে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাশ কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় তার মা কিংবা পরিবারের অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মামলার অধিকতর তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদের সবার বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

print