FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৩০ জুলাই, ২০১৭ - ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

জিডিপি ও বিনিয়োগে বৃহৎ অর্থনীতির দিকে দেশ

Taka20170730082451

x

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অর্থনীতির আকার। ক্রমেই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হচ্ছে। শিল্প কারখানা বাড়ছে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। অর্থনীতির গতি এভাবে থাকলে ২০৩০, ২০৪১ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বৃহৎ অর্থনীতির স্তরভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

একই সঙ্গে তারা বলছেন, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। এর সঙ্গে দেশে বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেরসকারি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থনীতিকে কল্যাণমুখী করতে হবে। তাহলে সুষম উন্নয়ন হবে বাংলাদেশের।

গত সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড আউটলুক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ক্রয় ক্ষমতার (পিপিপি) দিক থেকে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎঅর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনটিতে ২০১৭ সালেই বাংলাদেশের অবস্থান ৩২তম হবে বলে জানানো হয়েছে। আইএমএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পিপিপি জিডিপি হবে ৬৮৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালের মধ্যে তা ১ হাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। জিডিপির দিক থেকে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম হলেও ২০২২ সালের মধ্যে এই অবস্থান ৩৮ এর মধ্যে হবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডব্লিউসি) বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, ক্রয় ক্ষমতার সক্ষমতা (পিপিপি) বিচারে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩তম বড় অর্থনীতির দেশ।

পিডব্লিউসির প্রতিবেদনের ভাষ্য মতে, বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো উন্নত ও অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোকেই ছাড়িয়ে যাবে।

পিপিপি সক্ষমতার ভিত্তিতে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৫৩ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। যা ২০৩০ সালে দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর বৈশ্বিক পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে তা আরো বেড়ে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। তখন বাংলাদেশ হবে ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

প্রসঙ্গত, সাধারণত একটা দেশের বার্ষিক উৎপাদনের হিসাবে জিডিপি নির্ধারণ করা হয়। এর বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থে কোনো দেশে কত দ্রব্য ক্রয় করা যায়, অর্থাৎ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে পিপিপি সমন্বিত জিডিপি নির্ধারিত হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪৪তম। ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতার দিক থেকে ৩২তম স্থানে অবস্থান করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত ১০টি দেশের কাতারে শামিল হবেই।

তিনি বলেন, অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক স্থিতিশীল ও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ পুরো অর্থনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যসীমা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে দেশ।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা সরকারের পরিকল্পনা ও গৃহীত কর্মসূচির পাশাপাশি বলছেন টেকসই উন্নয়নে আন্তঃবাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা। তারা বলছেন, প্রতি অর্থবছরেই বাজেটের আকার বাড়ছে। বাড়ছে জিডিপি’র আকারও। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ছে না বিনিয়োগ আর কর্মসংস্থান। গত সাত বছরে জাতীয় বাজেট তিন গুণ বাড়লেও শেয়ার বাজারে মূলধন বাড়েনি দিগুণও।

অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য প্রথমেই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এরপর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।

এই গবেষক আরো বলেন, দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক। একে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট আমাদের জন্য এই সময়ে খুব জরুরী।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগের নিম্ন হার এখন পৃথিবীর অর্থনীতিতে বড় হতাশার কারণ। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের আগের বছরগুলোতে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে গৃহায়ণ ও ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়। কিন্তু সংকট শুরু হওয়ার পর এই দুই ধরনের ব্যয়ই কমে যায়। এরপর থেকে উন্নত দেশগুলো বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতি বিশেষ জোর দিয়ে আসছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। গত কয়েক বছরে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। তবে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়ানো গেলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গে ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই বিডা গঠিত হয়েছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের ‘ডুয়িং বিজনেস ২০১৭’ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ব্যবসা করার পরিবেশের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬ নম্বরে। গতবছর এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৮ নম্বরে। অর্থ্যাৎ পরিবেশের উন্নয়ন হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯ তে তুলে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিডা কর্তৃপক্ষ তথা সরকার।

সামগ্রিক বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগ কমছে না, এটি ইতিবাচক। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নানামুখী কর্মসূচি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, বিনিয়োগও বাড়ছে। বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানও আনুপাতিক হারে বাড়ছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৯.৬২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে তা ২৫ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ২৫.৬ শতাংশ। ফলে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বিনিয়োগে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমরা আশা করছি এই গতি আরো বাড়বে।

print