FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১০ আগস্ট, ২০১৭ - ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জামায়াত সন্তান ইন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আউট

provash amin_obaidul kader

x

প্রভাষ আমিন: ওবায়দুল কাদেরকে আমার খুবই পছন্দ। একসময় পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন বলেই নয়; তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন, ভালো বলেন, শুধু ভালো কথা বলেই দায়িত্ব শেষ করেন না, মাঠে নেমে তা প্রয়োগ করেন। ওবায়দুল কাদের কথা বেশি বলেন বটে; কিন্তু তিনি নিছক কথায় বড় নয়, কাজেও বড়। আরো অনেকের মত ওবায়দুল কাদেরও ওয়ান-ইলাভেনের শিকার।

তবে তিনি ওয়ান-ইলাভেনের হেনস্থাকে নিয়েছেন শিক্ষা হিসেবে। তাই তো অনেকেই যখন ওয়ান-ইলাভেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েছেন, তখন ওবায়দুল কাদের লেগে ছিলেন। ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুতে ঠাঁই না হলেও, পরে অন্তর্ভূক্ত হন। মন্ত্রিসভায় ঢুকেই তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

দেরিতে ঢুকলেও দ্রুত এগিয়ে যান নিজের কাজ দিয়ে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি নেমে পড়েন রাস্তায়। সচিবালয়ে বসে নয়, রাস্তায় নেমে রাস্তার অবস্থা দেখা; তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া, বাসে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনা, বিআরটিএসহ নানা অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিটে দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধরে দারুণ চমক সৃষ্টি করেন সদা তৎপর ওবায়দুল কাদের।

তার এই মাঠে নামা নিয়ে অনেকে নানা হাসি-ঠাট্টা করেন। কেউ তাকে বলে হাঁটা বাবা, কেউ বলে ফাটা কেস্ট। কিন্তু পাছে লোকে কী বলে, এ নিয়ে তার থোড়াই কেয়ার। তিনি নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি অবশ্য তার এই মাঠে নেমে কাজ করার দারুণ সমর্থক।

আমরা হিন্দি সিনেমায় মন্ত্রীদের এমন কাজ করতে দেখলে বাহবা দেই, আর আমাদের মন্ত্রী রাস্তায় নামলে গালি দেই! আমি বিশ্বাস করি, ওবায়দুল কাদের মাঠে নেমে নগদে ব্যবস্থা নেন বলেই বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। গত কয়েক ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরা অনেক স্বস্তিদায়ক ছিল। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বেই বাস্তব হচ্ছে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল প্রকল্পও অবয়ব পাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সাফল্য বিচার করলে ওবায়দুল কাদের জিপিএ-৫ পাবেন। শুধু সরকারে নয়, সাংগঠনিক দক্ষতায়ও তিনি জিপিএ-৫ পাবেন। ছাত্রলীগের কর্মী থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি রাজপথে ছিলেন, সংগঠনে ছিলেন। দেশজুড়ে তৃণমূলে তার দারুণ আবেদন, ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা। তিনি কথা বলেন, দলের বিবেকের মত। ছাত্রলীগ সম্পর্কে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তার তীব্র সমালোচনা কট্টর আওয়ামী বিরোধীদেরও লজ্জা দেয়।

ছাত্রলীগকে তিনি যে ভাষায় বকা দেন, আমি খালি ভাবি ওবায়দুল কাদের না হয়ে অন্য কেউ বললে ছাত্রলীগ তার ভিটায় ঘুঘু চরিয়ে দিতো। আমরা যা বলতে চাই, ভয়ে বলতে পারি না, ওবায়দুল কাদের সেই কথাগুলোই বলেন নির্ভয়ে। শুধু দলীয় বিষয় নয়, জাতীয় ইস্যুতেও আমার ভাবনার সাথে তার ভাবনা মিলে যায় প্রায়শই। অনেক সময় মতে না মিললেও, তার যুক্তির গভীরতায় চমকে যাই।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে যার সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকার কথা, সেই তথ্যমন্ত্রীও যখন ৫৭ ধারার পক্ষে সাফাই গাইছেন, তখন ওবায়দুল কাদের সাহসের সাথে সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিলেন। বলে দিলেন, ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ হচ্ছে।

যেমন ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় নতুন জোট গঠন নিয়ে বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তারা তো সেখানে ষড়যন্ত্র করছে না। তারা জোট করছে। অসুবিধা কি? গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটছে, ভালো তো। এটাই গণতন্ত্রের বিউটি। জোট হবে, গ্রুপ হবে। এটা হতে থাক, অসুবিধা কি?’ কী চমৎকার গণতান্ত্রিক ভাবনা। আমি তার কথা মুগ্ধ হয়ে শুনি।

হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগের সমঝোতায় সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলে দেন, ‘আওয়ামী লীগের কৌশল বদলেছে, আদর্শ বদলায়নি।‘ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে যখন অর্থমন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, তখন তীব্র সমালোচনা হয়।

কিন্তু ওবায়দুল কাদের জানিয়ে দেন, এটা অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মত, দলীয় নয়। কী দারুণ কৌশলে তিনি সামাল দেন জটিল পরিস্থিতি। আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। ওবায়দুল কাদের প্রায় প্রতিদিনই কথা বলেন। কিন্তু তিনি সীমাটা জানেন। দারুণ কৌশলে সবকিছু টেনে নেন নিজের দিকে।

রিপোর্টাররা তো তাদের রিপোর্টে কারো লম্বা বক্তব্যের অল্প কয়েক সেকেন্ড ব্যবহার করেন। ওবায়দুল কাদের হলে আমি পরে আলাদা করে পুরোটা শুনি। প্রায় প্রতিদিনই তাতে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা করে। প্রতিদিন তো আর দেয়া হয় না। আজ তাই একসাথে লম্বা একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিলাম।
তবে এত পছন্দের ওবায়দুল কাদেরের একটা কথায় আমি খুব মনে কষ্ট পেয়েছি। সম্প্রতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরীর কন্যা রিজিয়া নদভীর আওয়ামী মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়া নিয়ে দলের ভেতরেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

সেই জামায়াত কন্যা আবার আওয়ামী লীগের সাংসদ ড. আবু রেজা নদভীর স্ত্রীও। নদভী আর রিজিয়া নদভীর সাথে ওবায়দুল কাদেরের একটি ছবি নিয়েও তুমুল আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে ছবি নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।

ওবায়দুল কাদেরের মত একজন জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাকে প্রতিদিনই অনেকের সাথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ছবি তুলতে হয়, সেলফি তুলতে হয়। এদের সবাইকে তার পক্ষে চেনা সম্ভব নয়। ছবি না তুললে, এরা গিয়ে বলবে, নেতার ভাব বেড়েছে, কর্মীদের পাত্তা দিচ্ছে না।

ওবায়দুল কাদের ঠিকই বলেছেন, ‘এখন এমপি সাহেব আসছেন আমার সাথে দেখা করতে, আমি তার স্ত্রীকে বাদ দিয়ে ছবি তুলবো? বলবো, আপনি সরে যান।’ আমি তার যুক্তির কাছে হার মানি। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম, রিজিয়া নদভীর আওয়ামী মহিলা লীগে অন্তর্ভূক্তিটা ভুলে হয়েছে। এত বড় সংগঠনের সবাইকে তো আর চেনা সম্ভব নয়।

নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ ভুলটা শুধরে নেবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। ওবায়দুল কাদের বরং সেই জামায়াত কন্যার অন্তর্ভূক্তির পক্ষে যুক্তি দেন; আমি হতাশ হই, কষ্ট পাই। প্রথম কথা হলো, রিজিয়া নদভীর অন্তর্ভূক্তির সমালোচনাটা তার চোখে পড়েনি। আমার ধারণা, তিনি সমালোচনাটা আড়াল করতেই এটা বলেছেন। কিন্তু সত্যিই যদি সমালোচনাটা তিনি না দেখে থাকেন, তাহলে বলতেই হবে, তিনি তৃণমূলের সেন্টিমেন্টটা পড়তে পারেননি। কেউ কেউ হয়তো তাকে সত্যটা জানতে দিচ্ছে না।

মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের সাধারণ সম্পাদক যখন জামায়াত কন্যার অন্তর্ভূক্তির পক্ষে সাফাই গান, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিইবা করার থাকে। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘চারবছর ধরে তো এই সন্তানের হাজব্যান্ড হচ্ছেন এমপি। এই এমপি নিয়ে, তার মনোনয়ন নিয়েও এ দেশে কোনো কথা কেউ বলেননি। এবং তার বিষয়েও কোনো বিতর্ক কেউ সৃষ্টি করেনি।’

প্রথম কথা হচ্ছে, আবু রেজা নদভীর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন এবং এমপি হওয়া নিয়ে সমালোচনা ছিল এবং আছে। সরাসরি কোনো পদে না থাকলেও নদভী জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনটি জামায়াতের ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কৌশলে সেই আসনে জামায়াতের নদভীকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

কিন্তু কৌশল হোক আর যাই হোক, এই কৌশলটি দলের জন্য ক্ষতিকর। অবস্থা যত ভালোই হোক, আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই ৩০০ আসন পাবে না। তাই ৭০ এর নির্বাচনেও যে আসনটি পায়নি আওয়ামী লীগ, সেই সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন দখল করতে এমন বেপরোয়া হয়ে জামায়াত থেকে প্রার্থী ধার করতে হবে কেন?

আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কলাগাছকে মনোনয়ন দিলেও তো জিততো। সেখানে দলের কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত হতে পারতো। নদভীকে মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে আসলে আসনটি জামায়া্তের দখলেই থাকলো। নদভী বা রিজিয়া নদভীরা হলো সুখের পায়রা, দুধের মাছি।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া নদভীরা কয়দিন থাকবেন আওয়ামী লীগে? এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না ওবায়দুল কাদের? রিজিয়া নদভীর সাফাই গেয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেছেন, ‘এখন ভদ্রমহিলা নিজেই প্রশ্ন করেছেন, তাহলে আমার সন্তানের কি আওয়ামী লীগ করার অধিকার থাকবে না?

তার হাজব্যান্ডের সাথে সে আওয়ামী লীগ করতে পারবে না? তারা তো বলছে, তাদের বাবা ও শ্বশুরের সাথে তাদের সম্পর্ক নেই। সে অবস্থায় আপনি কী করবেন? যার স্ত্রী তিনি তো আমাদের এমপি। স্ত্রী কি জামায়াতের সদস্য, রোকন না কর্মী?’

একাত্তরের আলবদর কমান্ডার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আমির, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরীর কন্যার আওয়ামী লীগের অন্তর্ভূক্তির সুযোগ থাকা উচিত নয়। থাকতে পারে, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পিতার রাজনীতি-আদর্শ ছাড়ার ঘোষণা দেন। পিতার অপরাধের দায় অস্বীকার করেন। কিন্তু রিজিয়া নদভী তা করেননি। বরং তিনি বারবার তার পিতার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

কাদের মোল্লার ফাঁসির পর চট্টগ্রামে গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেছিলেন। এ বছরের শুরুতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে রিজিয়া নদভীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তখন তুমুল সমালোচনার মুখে কেন্দ্র তা অনুমোদন দেয়নি। তখনও রিজিয়া নদভীর পিতার নানা অপকর্ম সামনে এসেছিল। তখন এই রিজিয়া নদভী তার পিতার পক্ষে জোরালো্ অবস্থা নিয়েছিলেন।

সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে রিজিয়া ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আব্বা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ছি্লেন। উনি ইমামতি না করে আপনার বাবা করবে নাকি।’ তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘আমার বাবার নাম তোদের মত নোংরা মুখে মানায় না। তোদের মত নোংরা মুখে আমাদের নাম নিতে তিনবার অযু করে আসবি।’

পিতা জামায়াত নেতার প্রতি যার এত অনুরাগ, তার আওয়া্মী লীগ করার অধিকার থাকা উচিত নয়। ওবায়দুল কাদের যখন প্রায়শই হাইব্রিড, ফার্মের মুরগিদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেন, তখন তো নয়ই। জামায়াত নেতার কন্যা যদি আওয়ামী লীগে হাইব্রিড না হন, তাহলে আর হাইব্রিড কে? আর আওয়ামী লীগ এমপির স্ত্রী হলেই যে অটো তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়ে যাবেন, এমন কথা সংগঠনের কোথায় লেখা আছে?

মাত্র ১৫৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি করতেই যদি মহিলা আওয়ামী লীগকে জামায়াত কন্যাকে ধার আনতে হয়, তাহলে বলতেই হবে মহিলা আওয়ামী লীগের অবস্থা খুব খারাপ। অথচ ২৫/৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের জন্য রাজপথে সংগ্রাম করছেন, এমন হাজার হাজার মহিলা আছেন দেশে।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেছেন, রিজিয়া নদভী বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েননি। তাই ছাত্রী সংস্থা কিভাবে করবেন? হা হা হা। ছাত্র রাজনীতি করতে হলেই বুঝি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে? ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে, তিনি শুধু রিজিয়া নদভীর কথাই শুনেছেন। কিন্তু চট্টগ্রামে খোঁজ নেননি।

চট্টগ্রামে কয়েকটা ফোন করলেই তিনি নদভী আর রিজিয়া নদভীর কাহিনী জেনে যাবেন। খুব লম্বা তদন্ত করতে হবে না। তিনি এটাও জানবেন, রিজিয়া নদভীর দায়ের করা মামলায় তার প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক কর্মী এখনও কারাগারে আছেন।

শুধু সাতকানিয়ার ছাত্রলীগ নেতারাই জেলে আছেন তাই নয়। রিজিয়া নদভী ইস্যুতে বহিষ্কার হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৫ নেতা। জামায়াত কন্যার পক্ষে ওবায়দুল কাদেরের সাফাইয়ের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অপরাধে ছাত্রলীগ যে ৫ নেতাকে বহিস্কার করেছে, তাদের মধ্যে একজন সুশোভন অর্ক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। দুঃখটা এখানেই। জামায়াত কন্যাকে সাদরে বরণ করা হয় আওয়ামী লীগে। আর তার সমালোচনা করলে বহিস্কার হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান!

এখন আবার বহিস্কৃতদের ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী হলে জামায়াত কন্যা মহিলা আওয়ামী লীগে কী?

আপনি দেশে গণতন্ত্রের কথা বলবেন, ভিন্নমতের কথা বলবেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলবেন। বি চৌধুরীর বাসায় বৈঠককে ‘গণতন্ত্রের বিউটি’ বলবেন। আর আপনার সমালোচনা করলে তাদের বহিস্কার করে দেবেন। এ কেমন গণতন্ত্র?

প্রভাষ আমিন : সাংবাদিক, কলাম লেখক; বার্তা প্রধান, এটিএন নিউজ।
probhash2000@gmail.com

print