FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৫ আগস্ট, ২০১৭ - ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় শোক দিবস – জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

images

x

তোলপাড় ডেস্ক : আজ ১৫ আগস্ট। বাঙালির শোকের দিন। সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার সেই রক্তস্নাত দিন। ইতিহাসের এই নৃশংসতম হত্যাকা-টি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। সদ্যস্বাধীন দেশ গঠনে যখন সরকার ব্যস্ত, তখনই হত্যা করা হলো দেশের স্থপতিকে। এ হত্যাকা-ের নেপথ্যে ছিল দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার নীলনকশা।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রকাঠামোয় যে শোষণ-বঞ্চনা আর গণতন্ত্রের স্থলে সামরিকতন্ত্রের আধিপত্য ছিল, তা থেকে তিনি বাংলাদেশ নামের এই ভূখ-কে মুক্তই শুধু করেননিÑ একটি শোষণমুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে সদ্যস্বাধীন রাষ্ট্রটিকেও সাংবিধানিকভাবে শক্ত ভিত্তি দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন সুখী-সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তিই ছিল তার উদ্দেশ্য। যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে নতুন করে গড়ার কাজ শুরু করেন তখনই দেশি-বিদেশি শত্রুরা তাকে হত্যা করে। ঘাতক চক্র তাকে বা তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে হত্যাকারীদের নিরাপদ জীবনও নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই পৈশাচিক হত্যাকা-ের বিচার রহিত করা হয় ইনডেমনিটি আইন পাস করার মাধ্যমে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইনের মতো কলঙ্কিত আইনটিকে বাতিল করে এবং শুরু হয় প্রচলিত আইনে বিচার। অনেক বাধা পেরিয়ে খুনিদের কয়েকজনের ফাঁসির দ- কার্যকর হলেও বাকিরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা চাই বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে এনে শাস্তি কার্যকর করা হোক।

আজ জাতীয় শোক দিবসে আমরা জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলার। যখন বিশ্বজুড়ে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তি, জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তখন বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতার ত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তা সম্ভব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হোক আমাদের চলার পথের পাথেয়।

print