FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৪ জুলাই, ২০১৫ - ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

চাঁদাবাজির অভিযোগ, ডিবি ও ডিএসবির তিন কনস্টেবল রিমান্ডে

Khagra

x

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

তাদের মঙ্গলবার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান আদালতে তোলা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) সদস্য মো. ফিরোজুল ইসলাম (আইডি নং-৭৯৯), মো. মনিরুজ্জামান (আইডি নং-৭৩৩) এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য মো. হাফিজুর রহমান (আইডি নং-৮৩১)।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুউদ্দিন ভূইয়া রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে আর কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত কি না— তা নিশ্চিত করতে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আপাতত আসামিরা জেলহাজতে থাকবে। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মতো রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

প্রসঙ্গত, ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার সময় পুলিশের ওই তিন সদস্য ডিবি পরিচয়ে জেলা শহরের গঞ্জপাড়া এলাকায় মাপ্রু মারমা নামে এক গৃহবধূর বাড়িতে মাদকদব্য বিক্রি করা হয়— এই অভিযোগে তার স্বামী ক্যাচিং মারমাকে হাতকড়া পরিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই রাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা আদায় করে তার স্বামীকে ছেড়ে দেয়। ১০ জুলাই একই ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দুই হাজার টাকা আদায় করে তারা।

৯ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই তিন পুলিশ সদস্য গঞ্জপাড়ায় উসামং আসামের বাসায় গিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করে এবং তার স্বামী রতন কুমারকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উসামং আসামের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ছয়শত টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।

বিষয়টি পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মজিদ আলীকে জানানো হলে তিনি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এনায়েত হোসেন মান্নানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন— এএসপি হেডকোয়ার্টার কানন কুমার দেবনাথ ও এএসপি সদর সার্কেল মো. রইছ উদ্দিন।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. সামসুউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, অভিযুক্ত তিন পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

print