FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৭ আগস্ট, ২০১৭ - ১১:১২ অপরাহ্ণ

খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক

x

অর্থ ও বাণিজ্য : ব্যাংকিং খাতে আরও বাড়ল খেলাপি ঋণের পরিমাণ। গত বছরের জুনের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছরের জুন মাসের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ ঋণ অবলোপন করেছে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের যে হিসাব দিয়ে থাকে, তাকে মূলত নিয়মিত খেলাপি ঋণ বলা হয়। এর বাইরেও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ রয়েছে। যা অবলোপন করেছে ব্যাংকগুলো। সাধারণত খেলাপি ঋণকে অবলোপন করা ঋণ হিসাবে ধরা হয় না। এতে করে সাধারণভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কম দেখানো হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অবলোপন করা ঋণও প্রকৃত খেলাপি ঋণ। যেসব ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সেসব ঋণকে আর্থিক হিসাবের সুবিধার্থে ব্যাংকের স্থিতিপত্র বা ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করে ঋণ নেওয়ার ফলে খেলাপির পরিমাণ বাড়ছে। অভিযোগ আছে, অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচারও করছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন না থাকার কারণে মূলত খেলাপি ঋণ বাড়ে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘খেলাপি ঋণ দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, এটা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের। খেলাপির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকের সক্ষমতা কমে যায়। খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন রাখতে হয়। ফলে ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়ে। এ কারণে খেলাপি সংস্কৃতি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত জুন মাসের শেষে ব্যাংক খাতের ঋণ বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ব্যাংক খাতে খেলাপি ছিল ৭৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩৯ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ এখন বেশি। চলতি বছরের জুন মাসের শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট বা বিডিবিএল-এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অবশ্য মার্চের শেষে এই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৫ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনের শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চের শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ছিল ২৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। জুনের শেষে বিদেশি ৯ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। তিন মাস আগে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। জুনের শেষে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। তিন মাস আগে এই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ছিল ৫ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১১ সালের শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এখন সেই হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে সরকারি ব্যাংকগুলো পড়েছে মূলধন ঘাটতিতে। তাই পুনঃমূলধনের নামে এই ব্যাংকগুলোকে জনগণের করের টাকা যোগান দেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই আট বছরের মধ্যে সাত বছরই পুনঃমূলধনের নামে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দিয়েছে আরও দুই হাজার কোটি টাকা। গত ৯ অর্থ বছরে সরকার প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা যোগান দিয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোকে।

print