FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৮ মার্চ, ২০১৬ - ৭:২৯ অপরাহ্ণ

খালেদা জিয়ার সায়, গঠনতন্ত্র সংশোধন হচ্ছে

বিএনপি- খালেদা

x

নিজস্ব প্রতিবেদক : ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটি।

কাউন্সিলের দু’দিন আগে অনুষ্ঠিত বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ওই প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে দিবাগত রাত (শুক্রবার) পৌনে ১টায় শেষ হয়।

বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় বেরিয়ে এসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন,  দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে স্থায়ী কমিটি।তবে কী কী সংশোধন আসছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলে উপস্থাপনার পর তা অনুমোদন হলে গঠনতন্ত্রের সংশোধনী হিসেবে গৃহীত হবে। এই মুহূর্তে আমরা তা তুলে ধরতে পারছি না। কাউন্সিলে যখন সংশোধনীগুলো গৃহীত হবে, তখন আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরব।

বৈঠকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে যা রয়েছে তা-ই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একইভাবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-মহাসচিব পদের সংখ্যাও বাড়ছে না। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে।

বিএনপিতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদটি এবারও রাখা হবে। এই পদটি রাখা না রাখা নিয়ে বেশ কিছু ধরেই ব্যাপক আলোচনা চলছিল। কো-চেয়ারম্যান করার যে আলোচনা চলছিল সেটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

এ ছাড়া বিএনপির একটি গবেষণা সেল তৈরি হবে, যা গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক নতুন একটি পদ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের ব্যাপারটি গঠনতন্ত্রে যুক্ত করতে যাচ্ছে দলটি।

সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে ১৩ সদস্যের স্থায়ী কমিটির কলেবর বাড়িয়ে ১৯-এ উন্নীত করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। ওই কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ১৭ জন এবং যুগ্ম-মহাসচিব ৭ জন।

আগামীকাল (১৯ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির কাউন্সিল উদ্বোধন করবেন খালেদা জিয়া। এবারের কাউন্সিলে দলটির স্লোগান হচ্ছে— ‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’।

বিএনপির শীর্ষ দুই পদে বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নিবাচিত হয়েছেন।

বর্তমান স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক শুরুর আগে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের লোগো উন্মোচন করেন সভার সভাপতি খালেদা জিয়া। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খালেদা জিয়াকে কাউন্সিলের সুভ্যেনিয়র উপহার দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এটিই শেষ বৈঠক। সভায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। দেশনেত্রী নিজেই স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ২০০৯ সালে বর্তমান স্থায়ী কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ ৬ বছরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি এই সময়কালে মারা যাওয়ায় স্থায়ী কমিটি তার প্রতি শোক জানিয়েছে। আমাদের আরেকজন সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তিনিও আমাদের মাঝে আর নেই।

আসন্ন কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান ফখরুল। দায়িত্ব পালনের জন্য খালেদা জিয়া সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত এ মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড.আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান।

১৯ সদস্যের কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস কারাগারে রয়েছেন। এম. শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, সারোয়ারি রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ থাকায় বৈঠকে ছিলেন না।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করায় তারেক রহমানও ছিলেন না বর্তমান স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ এ বৈঠকে।

print