FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৪ জুন, ২০১৫ - ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকায় অবাদে শুকর পালন ॥ পরিবেশ হুমকির মূখে

index

x

বিশেষ প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ ॥ আজ পরিবেশ দিবস। কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নানান আয়োজনে প্রতিবছরই তা পালন করে থাকেন। কিন্তু পৌরসভার মেইন শহরে অবস্থানরত সুইপার কোলনী অবাধে শুকর পালন করে পৌর এলাকার পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট করছে, সেদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন ব্যাবস্থা নেই বলে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসি। তারা জানান, অবৈধভাবে শুকর পালনে দিনদিন এলাকার পরিবেশ চরমভাবে হুমকির মূখে পড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের রথখলা বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন চৌরাস্তা মোড় সুইপার কোলনী লোকেরা এলাকায় ১০/১১ বছর ধরে অবৈধভাবে বেআইনীভাবে নিষিদ্ধ বন্যপ্রাণী শুকুর গৃহপালিত হিসেবে লালন-পালন করে আসছে। ফলে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। সুইপার কোলনীর শুকরগুলো দলবেঁেধ দিনে-রাতে নিকটবর্তী বত্রিশ, রথখোলা, বিন্নাগাঁও, মোরগমহাল, বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা বাড়ীতে অবাধে প্রবেশ করে, বিভিন্ন ফসল ও গাছপালা নষ্ট করে যত্রতত্রে মল-মূত্র এমনকি নিকটবর্তী কবরস্থানে প্রবেশ করে গর্তে ছানা প্রসব করে কবরস্থান অপবিত্রসহ এলাকায় পরিবেশ নষ্ট করছে। অপরদিকে এলাকাবাসী শুকরের অবাদে বিচরন ও দিনদুপুরে চোলাইমদ বিক্রি করার কারনে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শুকরের কারনে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের এ এলাকায় চলাচল করতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকার নির্মল বাবু জানান, ২০১০ সালের শেষের দিকে এই সুইপার কলোনীর অর্ধশতাধিক শুকর অজ্ঞাত রোগে রোগে মারা যায়। এরপর কিছুদিন শুকর পালন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সুইপাররা আবার শুকর পালন করতে শুরু করেছে। বর্তমানে এদের বংশ বৃদ্ধিতে শতাধিক এর উপর শুকুর অবাদে বিচরন করছে। বণ্যপ্রাণী শুকর শহরের আবাসিক এলাকায় পালন বন্ধে ও তার আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে বিগত দিনে দুই শতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত (এলাকাবাসী) পৌর মেয়র বরাবরে আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। যার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসি মেইন শহরের মধ্য থেকে সুইপার কলোনী অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা জন্য পৌরকর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মাজাহারুল ইসলাম কাঞ্চন বলেন, জনবসতি ও শহরের মধ্যে অবাদে শুকুর পালন বেআইনী। এটা যেকোন সময় রোগ জীবানু ছড়াতে পারে, এতে মানুষ আক্রান্ত হয়ে সোয়াইন ফ্লু রোগে মারা যেতে পারে। তাই বন্য আইনে সংরক্ষন ও নিরাপদ স্থানে পালন করতে হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত (শুকর পালন) বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এলাকাবাসী সংবাদপত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

print