FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৯ নভেম্বর, ২০১৫ - ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ

কিশোরগঞ্জ আদালতে বাদির বিপক্ষে বক্তব্য করায় আইনজীবিকে অপহরণের চেষ্টা

x

অপহরণকিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক যৌতুকের মামলায় আসামীর পক্ষের আইনজীবি বাদির বিপক্ষে বিচারকের কাছে বক্তব্য উপস্থাপন করায় আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নু (৩৬)কে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাদির ভাড়া করা অপহরণকারীর ধারা আইনজীবির বাসা শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আইনজীবি নিজে বাদি হয়ে থানায় একটি অপহরণ আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নু জানিয়েছেন।
আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নু ও এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের কালিকা প্রসাদ গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে মারুফা আক্তার তার স্বামী করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের নানশ্রী আলমদি পাড়ার মারফত আলীর সাথে মনমালিন্য হলে তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে চার ধারায় কিশোরগঞ্জ প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোকাদ্দমা (৬৮১/১৪) দায়ের করেন। এ মামলায় এ্যাভোকেট মোঃ মজিবুল হক চন্নু বিবাদী মারফত আলীর পক্ষে আইনজীবি হিসেবে মামলা চালিয়ে আসছেন। বাদি পক্ষের লোকজন আদালতে মামলার লিখিত বিবরণ অনুযায়ী কোন সুনির্দৃষ্ট প্রমাণ না দিতে পাড়ায় মামলা হেরে যাবার ভয়ে তা মিমাংসার জন্য এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকজনকে দিয়ে বিবাদী মারফত আলী ও আইনজীবিকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু বিবাদী পক্ষের লোকজন ও আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নু তা মিথ্যা মামলা প্রমাণের লক্ষে মিমাংসায় নারাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদি পক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসীদল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নুর বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণের জন্য জোরপূর্বক টানাহেড়চা করে ঘরের বাহিরে নিয়ে যায়। এ সময় আইনজীবির স্ত্রী, ছেলে ও ছোট বোনের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে আইনজীবিকে ফেলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে আইনজীবি মোঃ মজিবুল হক চন্নু বলেন, আজ বুধবার আদালতে এ মামলার তারিখ ছিল। আদালতে বিবাদী পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করার পূর্বে বাদির পক্ষের লোকজন আমাকে ও বিবাদিকে মামলা মিমাংসার জন্য আবার প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দেয়। আমরা মিথ্যা মামলা প্রমাণ করতে প্রায় শেষপ্রান্তে চলে এসেছি, তাই মিমাংশায় নারাজ হওয়ায় এ নিয়ে এক পর্যায়ে বাদি পক্ষের লোকজনের সাথে আমাদের কথা কাটা-কাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটিয়া অপহরণকারীদের দিয়ে আমাকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা করেছিল বাদি পক্ষের লোকজন। এ সময় খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ব্যাপারে থানায় অপহরণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

print