FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ - ১১:৫১ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জে ২৮ বছরের স্কুলের জমির গোপন তথ্য ফাঁস ॥ এলাকায় চরম উত্তেজনা

অনিয়ম দুর্নীতি

x

বিশেষ প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ:কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে ২৮ বছর ধরে স্থাপিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি মালিকানার গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্কুলের জমি ভোগদকলকারী ওই বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় চলছে দখল, জবরদখল ও চরম বিরোধ। এ ঘটনাটি ঘটছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের গোয়ালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে।
স্থানীয় ও স্কুল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন স্কুলের নিজস্ব ভূমি দেখানো হয় ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে এস.এ ৩৩৭ দাগের ১০ শতাংশ, ৪২২ দাগে ২১ শতাংশ এবং ৪১৩ দাগে ২১ শতাংশ ভূমি। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্কুলটি বর্তমানে নিজস্ব ৩৩৭ দাগের মাত্র ১০ শতাংশ ভূমিতে স্থাপিত রয়েছে। আর স্কুলের সম্মুখে দৃশ্যমান খালি জায়গা ও স্কুলের মাঠ দখলীয় সকল ভূমিই এলাকার নিজস্ব ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। বিদ্যালয়ের বাকী ৪২ শতাংশ ভূমি স্থাপিত বিদ্যালয়টি থেকে পূর্ব দিকে কয়েকশত গজ দূরে পূর্ব দিকে পৃথক পৃথক দাগে রয়েছে। যা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাছির উদ্দিন (বাচ্চু) তার নিজের ব্যাক্তি মালিকানা জমি পরিচয় দিয়ে ওই জায়গায় বিভিন্ন ফসলাদি চাষাবাদ করে ভোগ দখল করে আসছেন। আর বিদ্যালয়ের সামনে ও আঙ্গিনায় থাকা এলাকার বিভিন্ন মানুষের ব্যাক্তি মালিকানা জমি স্কুলের প্রকৃত ভূমি বলে চালিয়ে গেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ ২৮ বৎসর যাবৎ জমির এ গোপনতথ্য এলাকার মানুষকে ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে আসছেন প্রধান শিক্ষক। এমনকি বিদ্যালয়ের আনুষাঙ্গিক খরচাদীর জন্য সরকারীভাবে প্রতি বছরের ঐচ্ছিক বরাদ্দ আসা প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি আত্মসাৎ করছেন।
সম্প্রতি স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সভায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের যাবতীয় তথ্যাদি ঘাটা-ঘাটি করতে গিয়ে সামনে এসে যায় বিদ্যালয়ের জমির মালিকানার বিষয়টি। এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে বিদ্যালয়ের প্রকৃত ভূমি গোপন রাখার বিষয়টিও। এ বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে তখন প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে চরম বিরোধ বাঁেধ। এমনকি এলাকার ব্যাক্তি মালিকানা দাবিদাররা লোকেরা স্কুলের সামনে ও আঙ্গীনার জমি দখলের জন্য উৎসবে মেতে উঠে। এ নিয়ে এলাকায় এখন প্রতিদিনই চলছে দখল, জবরদখলের প্রতিযোগিতা, চলছে দাবীদারদের মধ্যে বিরোধ। এ বিরোধের জের ধরে কিছুদিন পূর্বে স্কুল পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য প্রধান শিক্ষকের এমন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজের মনোনীত পকেট কমিটির সহায়তায় বিদ্যালয়ের ৪২ শতাংশ ভূমি ২৮ বৎসর যাবৎ অবৈধভাবে ভোগ দখল করে করছেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে ২/৩ জন ব্যতিত বাকিরা সবাই প্রধান শিক্ষকের আত্মীয়-স্বজন। এর মধ্যে নিজের স্ত্রী, ভাই, ভাবীও রয়েছেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিরক্ষর। শুধুমাত্র স্বাক্ষর দেয়া ছাড়া তিনি আর কিছুই লিখতে ও পড়তে পারেন না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধূর্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ফায়দা লুটছেন। এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, স্কুলটিতে কোন জাতীয় দিবসই পালন করা হয় না। দিন দিন স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আঃ হাই ও শিক্ষানবীশ আইনজীবী মোঃ নূরুল হক জানান, ধূর্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চুর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের  বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, খুব শিগ্রই বিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখে ওই প্রধান শিক্ষকের কোন অনিয়ম বা দূর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

print