FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১৩ নভেম্বর, ২০১৫ - ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

কটিয়াদীতে বারোমাসী লাউ চাষে শতাধিক চাষীর ভাগ্য বদল ॥ গ্রামের নাম পরিবর্তন

x

kishoreganj pic-মো: সিদ্দিক মিয়া, কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ বারমাসী লাউ চাষ করে ভাগ্যবদল করেছে কিশোরগঞ্জে কটিয়াদী উপজেলার অন্তত শতাধিক চাষী। সেই সাথে পাল্টে গেছে গ্রামগুলোর অর্থনীতির চাকাও। বদলে গেছে এলাকার জমির সৈন্দর্যের পরিবেশ। গ্রামের চারিদিকে যে কোন দিকে থাকালে সবুজ আর সবুজ লাউ গাছের ডুগা আর পাতার বাহার চোখে পড়ে। আর নিচের দিকে থাকালে লম্ব-লম্বা লাউ দেখতে পাওয়া যায়। পুরো গ্রামগুলো জুড়ে বারমাসী লাউ চাষের কারনে গ্রামগুলো লাউগাছ নামেই সারা জেলায় পরিচিতি লাভ করেছে।
সরেজমিনে উপজেলার সদর, মসূয়া, জালালপুর,বনগ্রাম, লোহাজুরী, আচমিতা, করগাঁও, বনগ্রাম, মমুরদিয়া প্রভৃতি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এসব গ্রামের প্রায় সব কৃষকেরাই বারোমাসী লাউ চাষ করছে। েেত তো বটেই বাড়ির উঠোনে, ঘরের চালায়, বিভিন্ন বড়-বড় গাছে গাছে, এমনকি ঘরের সামনে যেখানে একটু ফাঁকা জায়গা আছে সেখানে লাউ গাছ। এখন বারমাসী লাউই হচ্ছে এসব গ্রামের মানুষের সাধারণ কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল।
এলাকার বেশ কয়েকজন লাউ চাষী জানান, গত পাঁচ বছর পূর্বে আমরা প্রথম দিকে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে বারমাসী লাউ চাষ করি। জমিতে লাউয়ের ভালো ফলন হওয়ায় পরে আস্তে আস্তে এর বিস্তৃতি ঘটে । গত দুই বছর ধরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে লাউ চাষ শুরু করে এখানকার চাষীরা। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকে ঝুঁকছেন এই চাষে। এখন এসব গ্রামগুলোতে বিভিন্ন জাতের লাউ চাষ হয়। জমিতে সারা বছর চাষোপযোগী হওয়ায় বারোমাসী লাউ দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ লাউ চাষ করে ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন এসব গ্রামে অন্তত শতাধিক কৃষক। এ কারনে লাউ চাষের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে উপজেলার আশপাশের গ্রামের কৃষকদের। এখন জেলার বিভিন্ন বড় বড় হাটবাজার ছাড়াও প্রতিদিন বিপুল পরিমান লাউ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান হচ্ছে।
বনগ্রাম এলাকার লাউচাষী জামাল উদ্দিন জানান, এ লাউ চাষ করে আমরা লাভের মুখ দেখছি। বাজারে লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বিঘা প্রতি খরচ হয় ৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার লাউ। প্রতিটি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মসূয়া গ্রামের লাউচাষী আলাল উদ্দিন জানান, দুই বিঘা জমিতে তিনি বারমাসী লাউ চাষ করেছেন। সন্তানদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সংসারের সমস্ত খরচ চলে লাউ বিক্রি করে। এখানকার লাউ রপ্তানিযোগ্য। সরকারীভাবে বিদেশে লাউ রপ্তানির সুযোগ পেলে স্থানীয় কৃষকরা অধিক লাভবান হতো।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোজাহার হোসেন আহম্মদ জানান, ভাল মাটি, সঠিকমাত্রায় সার প্রয়োগ ,কীটনাশক প্রয়োগের ফলেএ বছরও ভাল ফলন হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ল্যমাত্রায় ছাড়িয়ে গেছে।

print