FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

২৩ জুলাই, ২০১৭ - ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

উত্তরের মেয়র আনিসুল হক

কাদের সিদ্দিকী

x

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম : রাজনীতিক ও কলাম লেখক

একসময় নদীভাঙা বানভাসি মানুষ জীবনের তাগিদে ঢাকা শহরে ছুটে আসে। আগে যারা আসে পরে তারা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে বিপদের সময় আশ্রয় দিতে নিয়ে আসে। মাথা গোঁজে বস্তিতে, হাতে নেয় রিকশা। আগে যারা এসেছে তারা হয়তো এবার কোনো নতুন বানভাসি অথবা নদীভাঙাকে নিয়ে আসবে, পানি টান দিলে ব্যাপক ভাঙনের শুরুতে আরও কতজন আসবে তার কোনো সীমা নেই। আমরা যখন ছোট ছিলাম কেবল রাজনীতি শুরু করেছি, তখন কার পূর্বপুরুষ কোথা থেকে এসেছে এসব নিয়ে কথা হতো। লম্বা-চওড়া ছিলাম বলে কেউ কেউ বলত আমরা বাইরের কোথাও থেকে এসেছি। স্বাধীনতার আগে আগে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। তাকে ঘিরে ছিল আমাদের সব চিন্তা-চৈতন্য। কোনো বিদেশি সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘অনেকেই বলছে আপনারা ভিনদেশ থেকে এসেছেন। আপনি কোন দেশের আদি বাসিন্দা?’ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আদি বলে কিছু নেই। যুদ্ধবিগ্রহ অথবা জীবিকার জন্য মানুষ কখনো এক জায়গায় থাকতে পারে না। রোগশোক, ধ্বংস, সামাজিক বিবর্তন নানা কারণে এক জায়গার মানুষ অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। কেউ ২০-৫০ বছর, কেউ দু-একশ বা হাজার বছর।’ সেদিন কথাটা না বুঝলেও এখন বুঝি। মুরব্বিদের কাছে শুনতাম, আমার বংশের পূর্বপুরুষরা ইয়েমেন থেকে এসেছেন। হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। কিন্তু আমার জন্ম ব্রিটিশ ভারতে। বড় হয়েছি পাকিস্তানে। নিজেদের বাহুবলে জন্ম দেওয়া দেশে এখন বাস করি। একজন অতি সাধারণ যে বাড়ির পাশে নগর দেখেনি, তার কাছে ঢাকা আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা কারো কাছে ইউরোপ, আমেরিকা অথবা আমেরিকা থেকে আফ্রিকা একই কথা। তাই যারা গ্রাম থেকে আসে, তাদের অনেকের কাছে গ্রাম ছেড়ে আসা এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে পাড়ি জমানোর মতো। এটা ঘটতেই থাকে সব সময় চিরন্তন। কারো ক্ষেত্রে স্থায়ী, কারো ক্ষেত্রে অস্থায়ী। কিন্তু ঘটনাটা চিরন্তন, বিরামহীন। আজ ঘটেছে বলে কাল আর ঘটবে না, তেমন নয়। আজকের চকচকে-ঝকঝকে সরকারি কোনো ভবন হয়তো ৫০ বা ১০০ বছর পর যতেœর অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আবার কোনো জীর্ণ কুটির আল্লাহর দয়ায় ঝকঝকে-তকতকে সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়েছে। তাই কখনো কোনো কিছু স্থায়ী নয়।

আমাদের এই ঢাকা ৫০ বছর আগে কেমন ছিল, ১০০ বছর আগে আর এখন? ধানম-ির ধানক্ষেত, কচুক্ষেত? সেখানে এখন প্রাসাদ। পুরান ঢাকা আরও পুরনো, চলার অযোগ্য, ফাঁকা ঢাকা এখন দালান-কোঠার জঙ্গল। খাল-বিল-ডোবা-নালা সব সমতল। সকালে বৃষ্টি হলে বিকালে নৌকাÑ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। পৃথিবীর সব দেশের সিটি করপোরেশনে বাঁধাধরা কিছু সুবিধা থাকে। আমাদের বাঁধাধরা অনেক অসুবিধা আছে, কিন্তু কোনো সুবিধা নেই। উত্তরের মেয়র জনাব আনিসুল হক একজন অরাজনৈতিক মানুষ। এখন রাজনীতির শিরোমণি হতে চাচ্ছেন। শুনেছিলাম, নওমুসলিম মুসলিম প্রমাণের জন্য অনেক কিছু বেশি বেশি করে। একজন অরাজনৈতিক মানুষ হঠাৎই রাজনৈতিক হওয়ার জন্য কখন কেমন করে আনিসুল হককে না দেখলে বোঝা যাবে না। মেয়র হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন, তারও তবু দাঁড়ি-কমা আছে যদিও নগর ভবনে ঝাড়পোছ নেই বহুদিন। কিন্তু আনিসুল হকের কোনো ব্রেক নেই, একেবারে লাগামহীন। ছেলেবেলা থেকে নাটকীয়ভাবে কথা বলতে পারা, সেটাই তার একমাত্র ভরসা। তা না হলে অমন দম্ভ করে বলবেন কেন, ‘ঘরে ঘরে মশারি বেঁধে দিতে পারব না।’ কথাটা যে নাগরিকদের প্রতি কত বড় উপেক্ষা বা অপমান একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে মশারি বেঁধে দিতে পারবেন না, কিন্তু ভোটের জন্য শুধু ঘরে ঘরে নয়, প্রয়োজনে অনেকের বাথরুম পর্যন্ত ছুটতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না।

image-91184’৭৩-’৭৪ সালে মুসলিম বাংলা গঠনের খুব তোড়জোড় চলছিল। একদিন পাকিস্তানের হাইকমিশনার সন্তোষে গিয়েছিলেন। হুজুর আমাকেও খবর দিয়ে রেখেছিলেন। হাইকমিশনার এ কথা-ও কথা বলতে বলতে একসময় বললেন,

হুজুর আপনার সামান্য সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের প্রত্যেক বাড়িতে একটা করে মুসলিম বাংলার পতাকা তুলতে পারি। হুজুর ছিলেন ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন মানুুষ। তিনি চট করে পাকিস্তানের দূতকে বলেছিলেন,

দেশের সব নাগরিককে যদি পাঁচ হাজার করে টাকা দিতে পারো দিয়ে এসো। সবাই টাকা পেয়েছে এটা নিশ্চিত হলে প্রত্যেক বাড়িতে একটা কেন, দুটা করে পতাকা তুলো। আমি কোনো আপত্তি করব না।

হুজুর একটা ওঠালেই তো আমরা খুশি, দুটা কেন?

না, সবাইকে যদি পাঁচ হাজার টাকা দিতে পারো একটার জায়গায় দুইটা তুলবা তাতে আরও জোরদার হবে। আবার রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন,

একটাতে যেখানে আমাদের পারপাছ মিটে যায়, সেখানে দুইটার দরকার কী? হুজুর বলেছিলেন,

আছে আছে। একটা বাড়ির সামনে আরেকটা তুলবে বাড়ির পেছনে। রাষ্ট্রদূত বুঝতে পারেনি, আমরাও বুঝতে পারিনি পেছনে মুসলিম বাংলার পতাকা তোলার দরকার কী? রাষ্ট্রদূত আবার বলেছিলেন,

একটা তুললেই তো হয়ে যায়। আমরা বাড়ির পেছনে আরেকটা তুলতে যাব কেন?

না না, তুলবা তুলবা। সব দরিদ্র মানুষকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিবা একটা তুলবা কেন, দুইটাই তুলবা। রাষ্ট্রদূত বলেছিল,

না-হয় দুইটা তুললাম। তবে বাড়ির পেছনে কেন?

ও তুমি তো আবার পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধের লোক। আমাদের দেশে গরিব মানুষের পেছনে বাড়ির পায়খানা থাকে। দরকার পড়লে একটা বাড়ির সামনে আরেকটা বাড়ির পেছনে পায়খানার ওপর তুলবা।

খুবই লজ্জিত হয়ে পাকিস্তানের দূত চলে গিয়েছিলেন। মুসলিম বাংলার পতাকা তুলতে এরপর আর কোনো পাকিস্তানের নেতা আসেননি। সময় কি মারাত্মক? আজ মুসলিম বাংলার কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু একসময় মুসলিম বাংলার আলোচনা আমাদের পাগল করে তুলেছিল। কথাটা এ জন্য বললাম যে, তখনকার ঢাকা আর এখনকার ঢাকা এক নয়। তখন ঢাকা ছিল ফাঁকা, এখন ঢাকা ঢাকার চাইতেও ঢাকা, শ্বাস ফেলার জায়গা নেই। বছর দশ-পনেরো আগে টু স্ট্রোক ইঞ্জিনের স্কুটার বিদায় হয়েছিল। সেগুলো এখনো থাকলে এতদিনে আমরা অনেকেই পগারপার হতাম। ঢাকায় শ্বাস নেওয়া যায় না। এই গত পরশু আমার এক ছোট্ট ইঞ্জিনিয়ার চায়না মজিবর শহর থেকে ফিরতে হঠাৎ বলেছিল, ‘স্যার আশপাশে গাছপালা নেই। মনে হয় শ্বাস আটকে আসে।’ ১৬-১৭ বছরের ছেলের কথা একেবারে মিথ্যে নয়।

উত্তরের নতুন মেয়র আনিসুল হক একসময় হঠাৎই বলে বসলেন গাড়ির ইউটার্ন বন্ধ করে দিতে হবে। যার কল্যাণে র‌্যাডিসন থেকে বিমানবন্দর কোনো ক্রসিং বা ইউটার্ন নেই। যানজট বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছেন। অথচ এই সিদ্ধান্তে একই গাড়ি দুবার চলছে মনে হয় তিনি ভেবেও দেখেননি। যারা বিশ্বরোড অথবা কুর্মিটোলা স্টেশন থেকে ঢাকার দিকে ফিরতেন, তারা সেই বিমানবন্দর ক্রসিং পর্যন্ত গিয়ে ফেরেন। তাতে গাড়ির সংখ্যা কমে না, বাড়ে। অপরিকল্পিত যেখানে সেখানে রাস্তা বন্ধ করায় গাড়ি বন্ধ হয়নি, রাস্তা বন্ধ হয়েছে। যাতে একই রাস্তায় একই গাড়ি দুবার দুদিকে চলে। তাতে গাড়ির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় ক্রসিং থাকলে যেখানে এক গাড়ির হয়তো ১০ কিলোমিচার চলত, সেখানে ক্রসিং না থাকায় ২০-২৫-৩০ কিলোমিটার চলতে হয়। আর জটের কারণে ১ ঘণ্টার জায়গায় ৩-৪ ঘণ্টা ইঞ্জিন চলতে থাকে তাতে যেমন জ্বালানি খরচ হয়, তেমনি আবহাওয়াও দূষিত হয়। এ থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ কেউ খুঁজছেন না। আনিসুল হক অপরিকল্পিত এখানে সেখানে এটা ওটা করতে চেয়েছেন। সেই যে দারোগায় বলেছে চাচি, আমি কি আর আছি। ট্রাকস্ট্যান্ড, ফুটপাত অন্যান্য কিছু জায়গা ফাঁকা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তেমন কাজের কাজ হয়নি। গ্লাসের পানি খালি করতে গ্লাস উপুড় করতে হবেÑ সেটা কে করবে? যদি তেমন ক্ষমতা না থাকে, এত কম ক্ষমতাতেই এত দম্ভ! প্রকৃত ক্ষমতাবান হলে কী যে করতেন। চিকুনগুনিয়ার জন্য ঘরে ঘরে মশারি বেঁধে দিতে পারবেন নাÑ এমন বলার চাইতে পা থেকে জুতা খুলে কিছু একটা করতে চাইলেও সেটা নাগরিকদের জন্য অনেক কম অপমানকর হতো। শুনেছি রঙ মেশানো ক্ষমা চেয়েছেন। খারাপ কথা বা খারাপ করা যত সোজা, ক্ষমা চাওয়া তার চেয়ে কঠিন। মুখে ক্ষমার সঙ্গে যদি অন্তরের সায় না থাকে, তাহলে সে ক্ষমা চাওয়া থুতু ফেলার চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড় আহত হয়েছি, কারণ ভালো মানুষ হিসেবে ভদ্রলোককে বহুদিন হৃদয়ে ধারণ করেছি, লালন করেছি। ভালো মানুষ খারাপ করলে সাধারণ মানুষ বড় বেশি আঘাত পায়। দিল্লিতে শুনেছি, মাতালের মাতলামি কারো গায়েপায়ে লাগে না। কিন্তু ভালো লোক নেশা করে মাতাল হলে আসমান ভেঙে পড়ে।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হলে তার প্রতিবাদে প্রায় ১৬ বছর ঘরছাড়া ছিলাম। সেখানে বছর বারো দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে জে-১৮৮১তে কাটিয়েছি। অমরেশ চন্দ্র সেন যশোরের মানুষ। যৌবনে কোনো একসময় বেশ কয়েক বছর ভারতের সর্বোদয় নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। চমৎকার লোক। এক ছেলে, এক মেয়ে তাদের। তারাও চমৎকার। নিউ দিল্লি মডার্ন স্কুলে রাহুল-প্রিয়াংকার সঙ্গে পড়ত। মাঝেমধ্যেই শঙ্খু-গার্গীকে স্কুলে দিয়ে আসতাম। এখন চিত্তরঞ্জন থেকে নতুন দিল্লি ইন্ডিয়া গেইটের কাছাকাছি মডার্ন স্কুলে যেতে প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা লাগে। তখন লাগত ১৮-২০ মিনিট। কখনো ২ মিনিটও বেশিকম হতো না। ’৭৭-এ ইন্দিরা গান্ধীর পতনের পর মোরারজি দেশাই আমাদের ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। বেঁচে থাকার চেষ্টা হিসেবে পাটনার কদমকুয়ায় শ্রী জয়প্রকাশ নারায়ণের কাছে গিয়েছিলাম। জনতা পার্টির সভাপতি শ্রী চন্দ্রশেখর, মধু লিমাই, সুরেন্দ্র মোহন, বিজু পট্টনায়েক, অটল বিহারি বাজপেয়ী আরও কতজনকে চিঠি দিয়েছিলেন হিসাব নেই। সেই সঙ্গে আমার দেখাশোনার জন্য এসি সেনকেও চিঠি দিয়েছিলেন। সেই সুবাদে সেখানে থাকা। সেও এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। আমি যখন প্রথম তাদের বাড়ি যাই, তখন গ্রেটার কৈলাস পার্ট-টুর এস-৩৩ এ থাকতেন। প্রতিবছর ডিসপ্লেসড পারসন হিসেবে চিত্তরঞ্জনে জমির জন্য দরখাস্ত করতেন। কিন্তু পান না। মনে হয় জমি পাওয়ার সংগ্রাম প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গিয়েছিল। আমি যাওয়ার মাসখানেক পর আবার দরখাস্ত। ৪০ দিনের মাথায় লটারিতে জমি পেয়ে যান। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমি পেয়ে গেছেন, তাই আমার কদর বেড়ে যায় তাদের কাছে। এমনিই তারা ভালো মানুষ, তারপর পৌনে তিন কাঠা জমি পেয়ে আরও ভালো। আগেই প্ল্যান করা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রাক্কলনে বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়। নিচে একটা বাথরুমসহ গেস্টরুম, ড্রয়িং-ডাইনিং ও রান্নাঘর। ওপরে বারান্দাসহ দুটো শোয়ার রুম। তার ওপর একটা শোয়ার রুমসহ ফাঁকা জায়গা। দিল্লিতে থাকতে প্রায় দিনই বাড়ির কাজ দেখাশোনা করতাম। বিদেশবিভূঁয়ে বেকার অবস্থায় কাজ দেখতে বেশ ভালো লাগত। শেষে গিয়ে দেখা গেল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জনাব এসি সেন ১২ বছর আমাকে কয় লাখ দিয়েছিলেন তার সত্যিই নিখুঁত হিসাব নেই, কিন্তু আমি যে তাকে কোনো একসময় ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম সেটা যতদিন ফেরত দিতে না পেরেছেন, ততদিন তাদের কোনো স্বস্তি ছিল না। এই ছিল একজন স্বাত্ত্বিক মানুষ। তার আরেক চরিত্রের কথা বলছি।

তিনি দিল্লিতে থাকতে প্রত্যেক রাতে মদ পান করতেন। সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের মতো নয় অথবা আমাদের মান্না যতদিন বেঁচে ছিল মান্নার মতোও নয়। ঘড়ি ধরে বাড়ি ফিরতেন সন্ধ্যা ৭টায়। স্নান করে খাবার টেবিলে বসতেন রাত ৮টায়। বাড়িতে যারা কাজ করত তারা গ্লাস, সোডা ও বরফ এনে দিত। মদ খাওয়া গ্লাসের নিচের দিকে ইঞ্চিখানেক ভরা হতো মদ দিয়ে, যদিও মদের নাম জানি না। উনি একই ধরনের মদ পান করতেন। প্রথমে একটু মদ, তারপর সোডা ওয়াটার দিয়ে গলাগলা, তারপর কয়েক খ- বরফের টুকরা দু-তিন চুমুক খাওয়ার পর যেটুকু খালি হতো বরফের খ- দিয়ে ভরা হতো। প্রথম গ্লাস শেষ করতে ৪০-৫০ মিনিট। বরফের খ- গলছে আরও খ- দেওয়া হচ্ছে, এইভাবে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিন গ্লাস শেষ করে খাবার খেয়ে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে শুয়ে পড়তেন। সকাল সাড়ে ৭টায় আবার খাবার টেবিলে। সেখানে দুধ-চিনি ছাড়া তিন-চার কাপ রঙ চা পান করতে করতে দাড়ি কেটে ঘড়িতে ৯টা বাঁজতে গাড়িতে উঠে বসতেন। ১২-১৩ বছর আমি এর কোনো ব্যতিক্রম দেখিনি। সেই বাড়িতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার স্বামী ওয়াজেদ দুলাভাই কতবার গেছেন, খেয়েছেন। কত নেতা কতবার গেছেন হিসাব নেই সেসব পরে বলি।

print