FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৬ আগস্ট, ২০১৭ - ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

অভিযুক্ত দুজন বাদ, এমডি পদে ৯ জন

bank120170806182436

x

 

বিশেষ প্রতিবেদক : দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদের জন্য নয়জনের নামের তালিকা করা হয়েছে। এই নয়জনের মধ্যে থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি পদে পদোন্নতি চূড়ান্ত সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজল কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ইউনুসুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ব বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে যারা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ১১ জনের একটি তালিকা করা হয়েছিল। এদের মধ্যে থেকে নয়জনের তালিকা করা হয়েছে। বৈঠকে দুজনের নাম সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে কমিটি জানতে পেরেছে।

বৈঠকে যে নয়জনের নামের তালিকা করা হয়েছে তারা হচ্ছেন- পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মুঈন উদ্দিন, অগ্রণী ব্যাংকের মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মশিউর আলী ও আলী হোসেন প্রধানিয়া, সোনালী ব্যাংকের আমিন উদ্দিন আহমেদ ও তরিকুল ইসলাম চৌধুরী, কৃষি ব্যাংকের মাহতাব জামিন এবং জনতা ব্যাংকের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আগামী দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কারো নামে কোনো অভিযোগ উঠলে তিনি যেকোনো ধরনের পদোন্নতির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তিনি আবার পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যে দুজনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তারাও যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তারাও পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

জানা গেছে, ডিএমডি থেকে এমডি পদে পদোন্নতি দিতে সরকার যে তালিকা করেছিল, তাতে অনিয়মের জন্য অভিযুক্ত দুজন তালিকার শীর্ষে ছিলেন।

পদোন্নতির জন্য যে ১১ জন ডিএমডির নামের তালিকা করা হয়, তাতে প্রথম দুজনই অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি মিজানুর রহমান খান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জেলে ছিলেন। সেই কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করেছিল সরকার। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আব্দুছ ছালাম আজাদ জনতা ব্যাংকের ডিএমডি। তিনি বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত। তবে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তৈরি করা জ্যেষ্ঠতা তালিকার শীর্ষে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি মিজানুর রহমান খানের বিষয়ে মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেছে, ‘বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন’। মুন গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় গত বছরের ৩০ জুন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই দিন দুপুরে মিজানুর রহমান খান ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পান। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আটক করে দুদক।

সূত্র জানায়, মিথ্যা তথ্যে মুন গ্রুপকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ায় মিজানুর রহমানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওই সময় মামলা করে দুদক। পরে ৭ আগস্ট মিজানুর রহমান খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার। তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিজানুর রহমানের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে মামলা চলমান থাকায় তাকে কোথাও পদায়ন করা হয়নি। সরকার তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নিলেও ব্যাংকে ডিএমডি পদ খালি না থাকায় তিনি যোগ দিতে পারেননি। যদিও অগ্রণী ব্যাংক থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন তিনি।

পদোন্নতির জন্য তৈরি তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আব্দুছ ছালাম আজাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেছে, ‘বিভাগীয় মামলা চলমান’। জানা গেছে, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের করা মামলায় আসামি ছিলেন আব্দুছ ছালাম। মামলায় গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হলে ছুটিতে বিদেশে চলে যান ছালাম। তাকে মামলার আসামি করা হলেও পরে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। মামলার পর ব্যাংকে তার দায়িত্ব পরিবর্তন করে মানবসম্পদ বিভাগে দেওয়া হয়। পরে আবারও তাকে ঋণ বিভাগের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে রোববারের বৈঠকে পদোন্নতির তালিকা থেকে এ দুজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

print