FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

১০ জুলাই, ২০১৫ - ১০:১৯ অপরাহ্ণ

অব্যাহতি পাওয়ার পরপরই লন্ডন যাচ্ছেন – আশরাফ

asraf

x

নিজস্ব প্রতিনিধি : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরপরই আগামী ১৫ জুলাই লন্ডন যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আশরাফ-ঘনিষ্ঠরা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে খুব শিগগির তিনি দেশের বাইরে যাচ্ছেন। খুব সম্ভবত সেটা আগামী ১৫ জুলাই হবে। তারা আরো জানান, আশরাফের স্ত্রী ও মেয়ে লন্ডনে থাকেন। তিনি সেখানেই যাবেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সেটি ১৫ দিনের সফর। তবে ঠিক ১৫ দিন পরেই তিনি ফিরে আসবেন এমনটি আবার নিশ্চিত করেননি আশরাফ-ঘনিষ্ঠরা। সূত্রটি আরো নিশ্চিত করেছে, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসবেন।

এদিকে সাংগঠনিক আর দাপ্তরিক কাজে ‘সমানতালে অবহেলায়’ তাকে দপ্তর হারাতে হয়েছে বলে ‘প্রচলিত ধারণার’ কথাই বলছেন দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা। পাশাপাশি তাঁরা এটাও বলছেন, এ মুহূর্তে আশরাফের মতো বিশ্বস্ত নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয় থেকে সরানো কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হয়নি।

যদিও বিষয়টি নিয়ে দলের অধিকাংশই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না বা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে দলের সম্পাদকম-লী ও সভাপতিম-লীর নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছয়জন নেতা জানান, আদতে ‘সুযোগকে’ কাজে লাগিয়ে দলের ‘আশরাফ-বিরোধী বলয়’ অবশেষে জয়ী হয়েছে।

আবার আরেকটি অংশ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী আশরাফের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই পদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আগের মন্ত্রণালয়ে (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দলে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত আশরাফের বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে কার্যত প্রথম পরিবর্তন হলো। এর আগে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েন। তবে তাঁর মন্ত্রণালয় কাউকে দেওয়া হয়নি। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আশরাফের অব্যাহতির গুঞ্জনের শুরু হয় গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। সেদিন বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ শহরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি বিষয়টিকে গুজব বলে অভিহিত করেন। আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে তারা এমন কোনো সংকেত পায়নি।

সূত্র আরো নিশ্চিত করে, সৈয়দ আশারাফের দলীয় কাজে ও দাপ্তরিক কাজে অবহেলা এতদিন আমলে না নিলেও সর্বশেষ একনেক সভায় সৈয়দ আশরাফের অনুপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করেছে। ওই বৈঠকে আশরাফের অনুপস্থিতি নিয়ে জ্যৈষ্ঠ কয়েকজন মন্ত্রী তাঁর দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে নানা রকম নেতিবাচক কথাও বলেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে দপ্তরবিহীন করা হয়েছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। শুধু তাই নয়, গত সপ্তাহে দুই দফায় আশরাফের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে দল ও সরকারের কাজে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে সূত্রটি আরো নিশ্চিত করেন, সৈয়দ আশরাফের মন্ত্রণালয়ে অনুপস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরে তার মন্ত্রণালয়ে অনেক বড় দুই তিনটি কাজ হয়েছে তার নজরের বাইরে, যা তিনি ‘পজিটিভ’ভাবে নেননি।

এদিকে অন্য একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ে আশরাফের অনুপস্থিতির পেছনে তার একান্ত সহকারী (এপিএস) কাজী সেলিমের ভূমিকা রয়েছে। মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি তিনি। দীর্ঘ মেয়াদে এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার প্রতি নির্ভর হয়ে পড়েন সৈয়দ আশরাফ। সেই সুযোগ সেলিম নানাভাবে নিতেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তখন বলেন, ছয় হাজার কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুজন মন্ত্রী রয়েছেন, একজনও আসেননি। তাই এ প্রকল্প একনেক সভা থেকে প্রত্যাহার করা হোক।

গত মঙ্গলবার একনেক সভার পর সৈয়দ আশরাফ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সংসদের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা একান্তে আলাপ করেন। ওই দিন বিকেলে চলে যান নিজের নির্বাচনী এলাকায়। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের নতুন নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই সময় মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে সৈয়দ আশরাফ গুজবে কান না দিতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসে বিকেলে যখন যুবলীগের ইফতারে অংশ নেন, তখন তিনি দফতরবিহীন মন্ত্রী।

print