FaceBook twitter Google plus utube RSS Feed
  

৭ নভেম্বর, ২০১৬ - ১:৪৮ অপরাহ্ণ

অবিলম্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

x

অবিলম্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা প্রয়োজন

 

 

কলাম: দেশে কোচিং বাণিজ্য যে রমরমা তা বলাই বাহুল্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ স্কুল ও কলেজের এক শ্রেণির শিক্ষক বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত। বাণিজ্যের প্রধান উপকরণে পরিণত হয়েছে জ্ঞান বিতরণের কাজ । লাগামহীন এ বাণিজ্য বর্তমানে এমন পর্যায়ে গেছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট বা কোচিং না করলে নম্বর কম দেওয়া হয় পরীক্ষায়। শুধু তাই নয়, এমন অভিযোগও আছে যে, শিক্ষার্থীদের নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে কিংবা মানসিক নির্যাতন করে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় এসব কাজ করছেন মানুষ গড়ার কারিগররা। এ জন্য তাদের কোনো অনুশোচনা আছে বলে মনে হয় না।

চার বছর আগে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুসারে কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ শিক্ষার্থীকে পড়াতে পারবেন।

এই নীতিমালা লংঘনকারী শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত হওয়ার কথা। বাস্তবতা হচ্ছে, এসব নীতিমালা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই। শ্রেণিকক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান করেন না। তাদের আগ্রহ কিভাবে বেশি বেশি প্রাইভেট পড়িয়ে কিংবা কোচিং করে অঢেল উপার্জন করবেন। এ নিয়ে প্রতিযোগিতাও চলে শিক্ষক বা কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে। দেশের প্রায় সব স্থানেই বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রাইভেট কিংবা কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে বা হচ্ছে।

শিক্ষার এই বাণিজ্যিকীকরণে মাশুল গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের পেছনে অভিভাবকদের যে ব্যয় হয় তার বেশিরভাগই যায় প্রাইভেট পড়ানো কিংবা কোচিংয়ের পেছনে।

আর শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত চাপের মুখে থাকে স্কুলের ক্লাস আর কোচিংয়ে সকাল থেকে রাত অব্দি দৌড়-ঝাঁপ করার কারণে। অনেক শিক্ষার্থীই এ চাপ সহ্য করতে না পেরে আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের মানসিক সমস্যায়। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এ অবস্থা থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

যাদের দায়িত্ব ঘরে ঘরে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানো, জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করা তারা যদি অর্থলোভে এ রকম বাণিজ্য করেন, স্বীয় মান-মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেন তাহলে তাদের কাছ থেকে শিক্ষার্থী কি শিখবে, কতটুকু জ্ঞান অর্জন করবে?

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে ন্যায়-নীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষকরা যে কোচিং রাজত্ব কায়েম করেছেন, অবিলম্বে তা বন্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে ব্যাপক মাশুল গুনতে হবে জাতিকে।

print